পে স্কেল নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা
কর্মচারীদের আন্দোলন স্তিমিত করতে পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল— অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল করিমের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি আদায় না হলে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল করিম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবেন না বলে মতামত দেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন— কর্মচারীদের আন্দোলন স্তিমিত রাখতে তারা পে কমিশন গঠন করেছিলেন, পরবর্তী সরকার এসে এই কমিশনের প্রস্তাব রাখতেও পারে বাদও দিতে পারে।বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তার এই বক্তব্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
উপদেষ্টার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অতি দ্রুত বক্তব্য প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা, টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পূনর্বহাল, দ্রব্যমূলোর উর্দ্ধগতিতে কর্মচারীদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার কথাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আন্দোলন করে আসছি। এর প্রেক্ষিতে সরকার পে স্কেল প্রদানের লক্ষ্যে নবম পে কমিশন গঠন করেছে। সে কমিশনের চুড়ান্ত রিপোর্টও এখন সরকারের হাতে, বাজেট রিভাইজ করে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করা হয়েছে, শুধু গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। সেই সময়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের অসহায়ত্ব নিয়ে রসিকতার শামিল বলে আমরা মনে করছি।
কর্মচারী নেতারা আরও বলেন, বিগত ১১ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার কর্মচারিদের পে স্কেল থেকে বঞ্চিত রেখেছে। কর্মচারীদের পে স্কেল প্রাপ্তির তীব্র আকাঙ্খার মাঝে এ ধরনের বক্তব্য তুষের আগুনে ঘি ঢালার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ক্ষুধার কষ্টে থাকা মানুষগুলো রাস্তায় নেমে পড়লে তার দায় এই সরকারকেই নিতে হবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ‘অবিবেচনাপ্রসূত, হঠকারী, অগ্রহণযোগ্য, তামাশামূলক বক্তব্য’ প্রত্যাহার ও অবিলম্বে বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, আমরা আশা করব শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টা আমাদের দাবি মেনে নিয়ে দেশের মধ্যেও শান্তি স্থাপনে অনন্য নজির গড়বেন ও অবহেলিত কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটাবেন।
এতে আরও জানানো হয়, জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহার ও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সকল সরকারি, আধা সরকারি ও সায়াত্ত্বশাসিত অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গেজেট না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment