চরিত্র হননে চারিদিক থেকে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে: জামায়াত আমির
চরিত্র হননে চারিদিক থেকে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি আজকে একজন আহত সৈনিক। গত কয়েক দিন চরিত্র হননে আমার ওপর চারিদিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যারা আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে, তাদেরকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। আমি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি এ দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা খুবই সীমিত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র সেটুকুও পূরণ করতে পারিনি। আজকে ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা নেই, সম্মান নেই। এটা সম্পদের অভাবে হয়েছে তা আমি স্বীকার করি না। তাহলে এত টাকা বিদেশে পাচার হলো কীভাবে? আমাদের সংকট হলো দায়বদ্ধতা, সততা, চরিত্র ও দেশপ্রেমের অভাব। আমি কে এটা চিন্তা করার আগে, আমি ভাবতাম আমার দেশটার কথা। আমরা বলি ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়; কিন্তু আমরা কি তা ৫৪ বছরে প্রমাণ করতে পেরেছি? বরাং উল্টোটাই প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪-এ ছাত্র সমাজকে বধ্য করা হয়েছে রাস্তায় নামতে। মেধার স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জন্য তাদের দাবি ছিল। এই দাবি আদায়ের পথে প্রথম বাঁধ ছিল ১৫ জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার সাথে সাথে সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছিল। পরদিন আবু সাইদ বলেছিল, বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। তাকে হত্যা করা হয়। তার এই হত্যা নিয়েও রাজনীতি করা হয়েছে। অশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এরপর লাশের পর লাশ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হলো। ১৪শ’ জনকে হত্যা করা হলো। বহু শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বিপ্লবে জীবন দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মজলুম ছিলাম, কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমরা তা ভুলে গেছি। মনে থাকলে জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতাম। এ সময়ের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য লেগে গেছে। আমরা ছিলাম মজলুম, আমরা যেন না হয়ে উঠি জালিম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে কৃষক আমাদের খাবার তুলে দেন, আমরা সেই কৃষিতে বিপ্লব আনতে চাই। তিনি বলেন, শিল্পগুলোকে আমরা শিশুর মতো লালন করবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের যুব সমাজ অনেক ইনোভেটিভ। তারা পারবে। তাদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে ইশতেহার দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, সমস্যা আমাদের মাথাগুলোতে। ওইটা ঠিক হওয়া উচিত। আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমি জামাতের বিজয়ে বিশ্বাসী নয়, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ৬৪ জেলার সবগুলোতে আমরা মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, কর্মস্থলে ডে কেয়ার থাকবে। ৫ বছর পর্যন্ত ফ্রি শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবো।
নজামায়াত আমির বলেন, আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সার্টিফিকেট উৎপাদনের। আমরা এটার আমূল পরিবর্তন করতে চাই। ক্রমান্বয়ে প্রফেশনাল এটুকেশন চালু করতে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, চা শ্রমিকদের জীবন দেখলে চোখে পানি আসবে। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেয়, তবে আমরা চা শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবো। চা বাগানের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
তিনি বলেন, আমি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বীর বলবো। কেউ বিদেশে মারা গেলে তার লাশ সরকারি খরচে দেশে আনবো। আমরা তাদের জন্য ফান্ড করবো। দেশে ফিরে এলে তাদের হাতেও কাজ তুলে দেবো তাহলে তাদের হাতাশা থাকবে না।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment