কোনো দল মানুক না মানুক, ফলাফল জামায়াত মানবে: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, যেভাবে ভোট হয়েছে, ফলাফলে যদি একই ধারা থাকে, জামায়াত মেনে নেবে। আর কোনো দল মানুক না মানুক, জামায়াত মানবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনার সময়ে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করেছে। অগ্রিম বলা সমীচীন নয়। জনগণের ওপর আস্থা আছে। প্রাথমিক ফলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এটাই নিশ্চিত নয়। এ পর্যন্ত যে ফল এসেছে, বেশির ভাগ জায়গায় এগিয়ে আছে জামায়াত।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অনেক শঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল। বড় কোনো কেলেঙ্কারি হয়নি। সমাজে একসঙ্গে চলতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। এবারই বাংলাদেশের নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক এসেছেন, যা অতীতে হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের ভূমিকা রেখেছেন। যারা নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন, কৃতজ্ঞতা জানাই।
নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব দলকেই সাহায্যকারী হিসেবে পাশে পেতে চাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত কমিশন-জনগণ মিলে সুন্দর নির্বাচন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে বেশি কৃতিত্ব নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্তরা।
এর আগে দুপুরে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই, সরকারটা হোক জনগণের, কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল, ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে, এই আশা করি।
কিছু অনিয়ম হলেও নির্বাচন উপভোগ্য ছিল
কিছু অনিয়ম হলেও নির্বাচন সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে বলে মনে করে জামায়াত। গতকাল সংসদ ও গণভোটের ভোট গ্রহণের পর সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কিছু দুর্বলতা ছিল। কিছু অনিয়ম ছিল। তার পরও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন দেশবাসীর কাছে উপভোগ্য ছিল।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মানুষের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত তিনবার ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর আগ্রহী ছিলেন। শহরাঞ্চলে যারা ছিলেন, তারা দলে দলে গ্রামে গিয়ে সুন্দরভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এহছানুল মাহবুব বলেন, সরকার ও নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করতে পেরেছে, তা দেশবাসী বিবেচনা করবে। আমরা মনে করি, সবার আন্তরিকতা ছিল; সবাই চেষ্টা করেছেন। এই চেষ্টার ফলে জনগণ অনন্য ও অসাধারণ নির্বাচন হয়েছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।
শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮, পটুয়াখালী-১ আসন এবং কয়েকটি আসনের কিছু কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, হুমকি দেওয়া হয়েছে; কোনো কোনো জায়গায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, নির্বাচনী কাজে জড়িতদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা চেষ্টা করেছে। এর পরও কিছু কিছু জায়গায় এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে, কিছু বাধা-প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে।
জুবায়ের বলেন, বুধবার থেকে মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি। অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। সবকিছুকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার ক্ষেত্রে দেশবাসীর চমৎকার অংশগ্রহণ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন প্রমুখ।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment