ফরজ গোসলের নিয়ম না জানলে, আপনার সকল ইবাদত বৃথা।

 একটুখানি লজ্জায় সব নামাজ-রোজা বাতিল।

ফরজ গোসলের নিয়ম না জানলে, আপনার সকল ইবাদত বৃথা।❌



আপনি সারাজীবন খুব ভালো ভাবে ইবাদত করে কাটালেন। মৃত্যুর পরে বিচার দিবসে যখন আপনার আমলনামা আপনার হাতে দিবে, তখন দেখলেন আপনার আমলনামায় কোন আমল জমা হয়নি। তখন আপনার চাইতে কপাল পোড়া আর কেউ কি থাকবে?


হ্যাঁ, এমনটাই হতে পারে, যদি নিয়ম না জেনে ফরজ গোসল করেন। কারণ, ফরজ গোসল সঠিক পদ্ধতিতে না করলে সারাজীবনই নাপাক অবস্থায় কাটাবেন।


যারা লজ্জায় কোনো আলেম বা যারা জানে তাদের কাছে কোনদিনই জানতে চাননি। না জেনে যদি এভাবেই আপনাদের জীবনঘড়ি থেমে যায়, কেমন হবে সেই সময়টা একটু চিন্তা করে দেখেছেন কি?


একটু লজ্জায় সারাজীবনের ইবাদত বরবাদ হতে বাঁচান।


🔲 যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়:

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞

১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বী-র্য-পাত হলে।

২. সহ–বাসে (সহ–বাসে বী-র্য-পাত হোক আর নাই হোক)।

৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।

৪. ইসলাম গ্রহন করলে (নব-মুসলিম হলে)।


🔲 ফরজ গোসলের নিয়ম:

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞

❑ গোসলের ফরজ ৩টি—

১. ভালোভাবে কুলি করা। —(সুরা মায়িদা: ৬)

[গড়গড়াসহ কুলি করা সুন্নাত। তবে রোজাদার হলে গড়গড়াসহ কুলি করা যাবে না, শুধু কুলি করবে।]


২. নাঁকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। —(সুরা মায়িদা: ৬)

[নাকের মধ্যে শুকনো ময়লা থাকলে তাও পরিষ্কার করবে। তবে রোজা অবস্থায় শুধু নাকে পানি দিবে, নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো যাবে না।]


❑ আমরা যেটা ভুল করি—

আমরা সাধারণত নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছাতে পারিনা। ওযু করার সময় নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো সুন্নাত। ওযুতে পানি মোটামুটি পৌঁছালেই ওযু হয়ে যায়। কিন্তু ফরজ গোসলে নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ, না পৌছালে গোসল হবে না, শরীর পবিত্র হবে না। সুতরাং ফরজ গোসলে প্রয়োজনে নাকে হালকা পানি নিয়ে উপর দিকে টান মারবেন। নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছালে দেখবেন, মাথা গরম হয়ে যাবে, মাথা ঝাঁকি দিয়ে উঠবে। টাটকি-ফাটকি, কোনো রকম নাকে পানি দিবে না, তাহলে গোসল হবে।


৩. সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো ফরজ, যেন কোথাও এক চুল

পরিমাণ শুকনো না থাকে। — (সুরা মায়িদা : ৬, তিরমিজি ১০৩, আল-বাহরুর রায়িক ১/৪৫, ফাতাওয়ায়ে শামি ১/১৫১, হিদায়া ১/২৯)


[শরীর ভালোভাবে পানি ঢালা, লজ্জা-স্থান, পশ্চাৎদেশ, নাভী, কানের প্যাচ, চুলের গোড়া ইত্যাদিতে পানি পৌছে দিবে।]

মেয়েরা মাথার চুলের গোড়া পর্যন্ত ভালোভাবে পানি পৌছাবে।


🔲 ফরজ গোসলের সঠিক পদ্ধতি ও সুন্নাত তরিকা:

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞

গোসলের আগে ইস্তিনজা(প্রসাব) সেরে নেবে।

এতে বীর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বের হওয়া সহজ হয়।


১. শুরুতে নিয়ত করবে এবং 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পড়বে। (বুখারি: ২৪৮) [বি.দ্র. গোসলখানা ও টয়লেট একত্রে হলে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ মুখে পড়া যাবে না।]


২. দুই হাত কবজি পর্যন্ত পৃথকভাবে তিনবার ধুয়ে নেবে। (বুখারি: ২৪৮)


৩. এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাঁ হাত দিয়ে শরীরের যেসব জায়গায় বীর্য ও নাপাকি লেগে থাকে, তা তিনবার ধুয়ে পরিষ্কার করবে। (মুসলিম: ৩২১)


৪. নাপাকি লেগে থাকুক বা না থাকুক সর্বাবস্থায় লজ্জাস্থান ধুয়ে নেবে এবং এরপর উভয় হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলবে। (বুখারি: ২৪৯)


৫. তারপর নামাজের অজুর মত ভালোভাবে অজু করবে, তবে পা ধোবে না। গোসলের শেষে ধুয়ে নেবে। (বুখারি: ২৫৭-২৫৯)


৬. অতঃপর মাথায় পানি ঢেলে চুলের গোড়া ভালোভাবে আঙ্গুল দিয়ে ভিজিয়ে নিবে। (বুখারী ২৫৮)।


৭. পুরো শরীরে পানি ঢালা; প্রথমে ডানে ৩বার, পরে বামে ৩বার, শেষে মাথার উপর ৩ বার পানি ঢালবে। (বুখারী ১৬৮, ২৫৪)।


৮. পুরো শরীর ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোনো অংশ এমনকি কোনো পশমও যেন শুকনো না থাকে। বুখারি: ২৭৪, আবু দাউদ: ৪৯, ইবনু আবি শাইবা: ৮১৩)


☞ তবে সাগর, নদী, পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলে তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ: ২৪৯, ইবনু আবি শায়বা: ৮১৩)


৯. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে মেজে ধুয়ে নেবে। (তিরমিজি: ১০৬)


১০. নাভি, বগল ও অন্যান্য জায়গায় পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। সব শেষে গোসলের জায়গা থেকে সামান্য সরে গিয়ে দুই পা তিনবার ধুয়ে নেবে। (হিদায়া: ১/৩০)


১১. উঁচু স্থানে বসে গোসল করবে, যাতে পানি গড়িয়ে যায় ও গায়ে নাপাকির ছিটা না লাগে। পানির অপচয় না করে, বসে বসে গোসল করবে।


লোকসমাগমের স্থানে গোসল করবে না। নাপাকি থেকে পবিত্র এমন জায়গায় গোসল করবে। ডান দিক থেকে গোসল শুরু করবে। (বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৪, রদ্দুল মুহতার ১/৯৪)


১২. বাহ্যিক অঙ্গের চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনো থাকলে ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে না। (আবু দাউদ: ২৫৯, শারহু মুখতাসারুত তহাবি ১/৫১০)


১৩. নেইলপলিশ (Nail polish), রং বা সুপার গ্লু ইত্যাদি যা শরীরের ত্বকে পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়, তা উঠিয়ে নিচে (অর্থাৎ, ত্বকে) পানি পৌঁছানো জরুরি, অন্যথায় গোসল শুদ্ধ হবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩)


১৪. ফরজ গোসলে পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল গোড়াসহ সম্পূর্ণ ভালোভাবে ভিজতে হবে। নারীদের চুল বাঁধা থাকলে, তা খোলা ছাড়াই যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে না খুলে শুধু চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। আর যদি চুল খোলা থাকে, তাহলে পুরুষের মতো চুলের গোড়াসহ সম্পূর্ণ চুল ধোয়া ফরজ। (বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৪, রদ্দুল মুহতার ১/১৪২)


১৫. ফরজ গোসলে নারীদের কান ও নাকফুল নাড়িয়ে ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরি। (আল-মুহিতুল বুরহানি ১/৮০) [কানের ভেতর ও নাভিতে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।]


১৬. গোসলের ভেজা কাপড় বালতি বা এধরনের ছোট পাত্রে ধোয়া হলে কমপক্ষে তিনবার ধুয়ে তিনবার নিংড়াবে, যেন নাপাকির চিহ্নমাত্র না থাকে।


তবে নাপাকি লেগে থাকা কাপড় যদি প্রবহমান পানি যেমন, নদী, পুকুরে বা ট্যাপের পানিতে এতো বেশি করে ধোয়া হয়, যাতে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয়ে যায় তাহলে তা পাক-পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তিনবার নিংড়িয়ে ধোয়া জরুরি নয়। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৩, আল-বাহরুর রায়িক ১/২৩৭, ফাতাওয়ায়ে হাক্কানিয়া ২/৫৭৪, জামিউল ফাতাওয়া ৫/১৬৭)


☞ এটাই হচ্ছে গোসলের পরিপূর্ণ সঠিক পদ্ধতি।


❑ বি. দ্র. [অনেকই মনে করেন গোসল শেষে নামাজ পড়তে চাইলে আবার নতুন করে অজু করতে হবে-যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে গোসল করলে গোসল শেষে নামাজ পড়তে চাইলে আবার নতুন করে অজু করা লাগবে না। তবে গোসলের মাঝেই যদি অজু ভাঙার কোন কারণ পাওয়া যায় তাহলে গোসল শেষে আবার অজু করতে হবে।]


আল্লাহর আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন🤲


🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

স্বামী থেকে পরিপূর্ণ যৌন তৃপ্তি না পেলে নারীর আচরণ কেমন হয়..

মহিলারা স্বামী ছাড়া৩ ব্যাক্তির সাথে স'হবাস করতে পারে। লজ্জা নয় জানতে হবে

ডা'র্টি সে'ক্স(dirty Sex) বলতে বোঝানো হয় এমন যৌ'ন কার্যকলাপকে,